Wednesday, 18 September 2019

পুজো মানে - ঘুড়ি লাটাইয়ের সাথে ছোট্ট সূচনা

আজ বিশ্বকর্মা পুজো। সকলকে জানাই তার শুভেচ্ছা, আমি কলকাতা তে নেই, কিন্তু আজ যে কলকাতা তে কি পরিস্থিতি তা আমি ভালো করেই  জানি।  আজ তো অটো  টোটো রিক্সা ভাইদের দিন। চারিদিকে হাজার একখানা পুজো, আলোর বাহার, রঙিন গান আর দেদার উল্লাস।  আর এই উল্লাসের সাথে সাথে কিন্তু সময় ভালো করে মনে করিয়ে দিচ্ছে, যে পুজোর আর মাত্র ১৪ দিন বাকি।  😁



আমার এই সংকলন টা শুরু করেছি কিন্তু একটু নস্টালজিক হবো বলে। সুতরাং, যদি আপনারা ভাবেন, এই মেয়েটা কি রে ভাই ! সর্বক্ষণ ছোটবেলা নিয়ে আদিখ্যেতা করে। তাহলে বলি, "শৈশবে  আর ফেরা যাবে নাতো নেই পথ নেই হারিয়ে গেছে সেই দেশ "। তা যাই হোক, লেখাটা শুরু করি।

নীল আকাশ, তুলোর মতন মেঘ আর মাঝে গুচ্ছ গুচ্ছ ঘুড়ি।  এই দৃশ্য আপনারা কত জন দেখেছেন আমি জানিনা। বিশ্বকর্মা পুজোর ঠিক ২-৩ সপ্তাহ আগের থেকে শুরু হয়ে যেত ছেলেদের কলরব। বিকেল ৪ টে থেকে সন্ধ্যা নামা অব্দি এই হুল্লোড়ের আওয়াজ আমাকে বাধ্য করতো ছাদে চলে যেতে। ছাদে দিয়ে দেখতাম অসংখ্য ঘুড়ি আকাশে উড়ছে। শুরু হয়ে যেত গোনা। কোন ঘুড়ি টা কাকে কাটছে আর সেই কাটা ঘুড়ির ভাব গতিক কোন দিকে এগোচ্ছে সেটা ছিল বেশি আকর্ষণীয়। কারণ যদি ঘুড়ি কেটে ছাদে পরে, ব্যাস কি মজা। কাটা ঘুড়ি কুড়িয়ে জমানোর আনন্দ অতুলনীয়। কখনো কখনো ছাদে যেতে একটু দেরী হয়ে গেলে একটা রোমহর্ষক কৌতূহল জাগতো।  পাছে কিছু ঘুড়ি পরে দেখতে পাই। এবং এমন টা হয়েছেও। আমি কিন্তু খুব হিংসুটে ছিলাম।  ছেলেপিলেরা বাড়ি খুঁজে পেলে ঘুড়ি চাইতে আসতো , আমি দিতাম না। মা জানলে অবশ্যই দিতে বাধ্য করতো সেটা আলাদা ব্যাপার। কিন্তু ঘুড়ি আমি দিতে চাইতাম না। আপনারা হয়তো ভাবছেন আমি ঘুড়ি ওড়ানোতে ওস্তাদ , কিন্তু সেটা একদম ভুল। চেষ্টা করিনি যে তা নয়, কিন্তু হয়ে ওঠেনি।


আমার পাপা ঘুড়ি ওড়াতে খুব ভালো পারেন, আবার বিভিন্ন রকম ঘুড়ি বানাতেও জানেন। তো, আমার অনুরোধে পাপা রবিবার দেখে আমাকে নিয়ে ছাদে উঠতো। ঘুড়ি ওড়াতো পাপা , আমি শুধু ঘুড়ি ছাড়তে সাহায্য করতাম আর লাটাই ধরে থাকতে সাহায্য করতাম । পাপা ঘুড়ি বানানো, ওড়ানো সবই শিখিয়েছিলো, কিন্তু  আমার দ্বারা হয়েনি।  আর আপনারাই বলুন, চারিদিকে যদি অট্টালিকার ভিড় থাকে, সেখান থেকে ঘুড়ি ওড়ানো যায় ??  তো বিশ্বকর্মা পুজোর দিন আমার ঘুম সক্কালে ভেঙে যেত তার অবশ্য যথাযথ কারণ ছিল।  আমাদের দোকানের পুজো থাকতো, তার জন্য তার আগের দিন থেকেই পাপাকে দেখতাম খুব ব্যস্ত থাকতে।  আমার শখ ছিল কাগজের শিখল বানানো, মার্বেল কাগজ দিয়ে সিংহাসন সাজানো আর আল্পনা দেয়া। তাই আমি ভোর থেকেই জেগে থাকতাম আর ভাবতাম আমাকে পাপা কখন নিয়ে যাবে।  আমি আগের দিন থেকেই শিখল বানিয়ে রাখতাম। একটু যখন বড়ো হলাম , মানে এই সপ্তম অষ্টম শ্রেণী, তখন আমার ভালোবাসা জাগলো পুজোর বাসনের উপর।  মায়ের সাথে আগের দিন থেকে বসে বাসন ও পুজোর সরঞ্জাম গোছাতে এগিয়ে যেতাম।  আর  সাথে সাথে মাথায় ঘন্টা বাজতো , যে দূর্গা পুজোর আর বেশি দিন নেই। বিশ্বকর্মা পুজো ছিল একটা জেন্টল রিমাইন্ডার যে উৎসবের মাস শুরু। ছিল বললে ভুল হবে, এখনো আছে কিন্তু কলকাতাবাসীদের জন্য।  এখানে তো কিছু ফ্যাক্টরি ছাড়া আর পুজো হয় না।

যদিও  ৯০% পুজো ১৭ই স্পেটেম্বরে হয়ে  থাকে, এই বছর একটু ব্যতিক্রম হলো।  এই ব্যতিক্রম যদিও এর আগে হয়েছে, তাও খুব বিরল। এখন তো বিশ্বকর্মা ঠাকুর ও এক সপ্তাহ থাকে কলকাতার প্যান্ডেলে।  আমি তার বিদ্রুপ করিও না।  মানুষ যত পারুক আনন্দে মেতে থাকুক না, দেখতেও ভালো লাগে আর নিজের মন টাও বেশ খুশি খুশি থাকে তবে  হ্যাঁ রাতের দিকে তারস্বরে মাইকটাকে বাদ দিয়ে 😎।


Posted By Debarati Datta Read about me here blogging since 2011 Copyright © Debarati Datta Privacy Policy

Monday, 16 September 2019

পুজো মানে - পুজোর জামা

তিন বছর আগে লিখেছিলাম  রং বদলানো পুজো  নামক একটি সংকলন।  তাতে পুজো সম্পর্কিত অনেক আবেগ অনুভূতির  ব্যাপারে লিখেছিলাম।  অনেক দিন হলো ব্লগ লিখিনি।  মানে এখন আগের মতন  লেখাই হয়না। এখন এই মুহূর্তে  আমার আবার ইচ্ছা করলো লেখা শুরু করার।  পুজোর গুনে গুনে আর ১৬ দিন বাকি, তাই এখন আবেগ টগবগ করে ফুটছে  আর  লেখার জন্য হাত শুঁড়শুঁড়ি করছে। বাঙালির কাছে পুজো মানে শুধু পুজো  ও ভক্তি না, তার সাথে থাকে আরো অনেক আনুসাঙ্গিক আনন্দের জিনিস।  আর সেই আনন্দ শুরু হয়ে যায়  প্রায় ২ মাস আগে থেকে।



তা শুরু করছি পুজোর জামা দিয়ে।  হা হা , গুঁড়ো  থেকে বুড়ো , পুজোর জামা কিন্তু অত্যাবশ্যক এবং একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ পুজোর সূচনা। যদিও ছোটবেলার পুজোর জামা  থেকে এখনের পুজোর জামার সংজ্ঞা অনেক বদলেছে, তাও  'কটা পুজোর জামা হল ' এই ভাবনার মধ্যে কিন্তু কোনো বদল আসেনি। ছোটবেলার মতন কেউ হয়তো জিজ্ঞেস করার নেই, বা স্কুলের বন্ধুদের মধ্যে জামার গুনতি  দেখানোর মতন ইচ্ছা নেই, কিন্তু মনে মনে একটা  গুনতি  চলতেই থাকে।  তা ছোটবেলা থেকেই শুরু করছি।

মনে আছে, পুজোর ছুটির আগেই  ছিল অর্ধ বার্ষিকী পরীক্ষার একটা কাঁটা তারের বেড়া।  তাই অগত্যা পড়তে বসতেই হতো। কিন্তু এই পুজোর এক দেড় মাস আগে থেকেই শুরু হতো পুজোর জামার আমদানি 😁। একটু অসময় কলিং বেল বাজলেই ছুট্টে চলে যেতাম  বারান্দায়,দেখতাম কে এসেছে। যদি দেখতাম কেউ  অতিনিকট  আত্মীয় এসেছে আর হাতে বড় বড় প্যাকেট , তাহলেই কেল্লাফতে।  চুপচাপ পড়ার ভান করতাম আর অপেক্ষা থাকতো, কখন ডাক পড়বে  জামার ফিটিং মাপার জন্য।  যেই না ঘরের দরজা মা খুলতো আর  বলতো একটু আয়ে, মন টা  ফুরফুরে হয় যেত, কিন্তু নিজের আবেগ উচ্ছাস  চেপে রেখে মৃদু একটা হাসি আর লজ্জার  রেখা মুখে ধরে রেখে যেতাম আর দেখতাম  আমার পুজোর নতুন জামা।  সেই দিন টা হালকা করে আমার মনের দরজায় কড়া নেড়ে বলতো , পুজো আসছে।  আর শুরু হতো গুনতি।  একটা,দুটো,তিনটে, চারটে  আরো অনেক।  এতো গেলো, জামার আমদানি। তারপর হতো , মা পাপার পুজোর শপিং।  এর ব্যাপারে আগেও লিখেছি রং বদলানো পুজোর কোনো একটা লেখনী তে।  যেই শুনতাম মা পাপা ঠিক করেছে কোনো এক রবিবার নিউ মার্কেট যাওয়া হচ্ছে, ব্যাস , তার মানে পুজো  একদম নিকটবর্তী।  এইটা স্বাভাবিক ভাবে পরীক্ষা শেষের পর হতো। সেই দিনটাই একটা উৎসবের মতন লাগতো। সারাদিন ঘুরে ঘুরে  জামা,জুতো কেনাকাটা  আর ভালো  রেঁস্তোরায়  গিয়ে খাওয়া দাওয়া।  তখন আমিনিয়ার বিরিয়ানি আমার খুব ভালো লাগতো। ২০ বছর আগের কথা বলছি, সেই কেবিনের মধ্যে বসে বিরিয়ানি খাওয়া আর মা পাপার  হাতে  প্রচুর নতুন প্যাকেট দেখতে পাওয়ার আনন্দের তুলনা নেই।  এই ছোট্ট ছোট্ট আনন্দ গুলো শপিং মলে  বা অনলাইনে কিনে আর কই  আসে ? তাই না। এছাড়াও থাকতো আরেকটা দিন যেখানে মা শুধু আমাদের কে নিয়ে বেরোতো  উপহার কেনার জন্য আর তারপরেই  চলতে থাকতো  মা আর পাপার  পুজোর জামা দেওয়ার  হিড়িক।  এই দেয়া নেয়া র মধ্যে যেই আনন্দ ও উচ্ছাস জড়িয়ে থাকতো সেটা  অতুলনীয়।  😇

এরপর যখন একটু বড়  হতে লাগলাম, তখন পুজোর জামার আমদানি  গুলো বদলে হলো টাকার আমদানি , পাছে আমাদের জামা পছন্দ না হয়। কিন্তু আমার কখনোই এটা ভালো লাগতো না , টাকার মধ্যে ওই আবেগ বা ভালোবাসা টা  পেতাম না, হয়তো  যিনি দিচ্ছেন তার পছন্দকে সম্মান জানানোর সুযোগ পাওয়া যেত না বলে কেমন মেকি লাগতো ।  উপহারের কোনো পছন্দ বা অপছন্দ হয়না।  তাই না ? ভালোবাসাটাই আসল।  সেই যাই হোক, এই রীতি এখনো চলছে।  এবং অনেকেই এতে বেশি স্বচ্ছন্দ্য বোধ করেন (আমি একদম করিনা)। জামা না পেলেও, "কিছু কিনে নিও" এখনো  বিদ্যমান।

এখন এই গত ৫-৭ বছর ধরে অনলাইন শপিং এর হিড়িকে সারা বছর ধরেই জামা, শাড়ী কেনা হচ্ছে। আগের মতন কোনো বিশেষ সময় লাগেনা।  আগে যেমন পয়লা বৈশাখ আর দূর্গা পূজা হতো জামা কেনার আসল সময়, এখন ১২ মাস ধরেই চলছে কেনাকাটা।  তো চাকরি পাওয়ার পর, এই অনলাইন শপিং টা  অতিরিক্ত বেড়ে গেলো।  পুজোর এক-দেড় মাস আগে যেগুলো কেনা হচ্ছে, সেগুলো পুজোর জন্য বরাদ্দ করে আবার গুনতি হতো শুরু।  এই গণনা কিন্তু শুধু মনে মনে , এই ধেড়ে বয়সে কেউ তো আর জিজ্ঞেস করবেনা , খুকী , কটা  জামা হলো? আমাকে একটা দেবে ? 😂 তাও অতিরিক্ত কাছের কোনো বন্ধু জিজ্ঞেস করলে তখন বলা চলতো। হা হা।  এইটা এখনো চলছে আর হয়তো চলবেও।

কিন্তু মা পাপা  দিদিভাই এর কোটা টা এখনো বিদ্যমান।  আর সেই পুজোর জামা মনে করিয়ে দেয় , পুজোর রং বদলালেও পুজোর ভাব টা  একই আছে।

তা আপনার পুজোর  কটা জামা হলো ?😛


Posted By Debarati Datta Read about me here blogging since 2011 Copyright © Debarati Datta Privacy Policy

Sunday, 15 September 2019

ছোট্টবেলার রং গোটা দুই চার - তৃতীয় পাতা

ছোট্টবেলার রং গোটা দুই চার ,
ছুটির দিন ,খালি বাড়ির উপহার 
খেলা ধুলা ,সাজগোজে রঙের বাহার 
শক্তিমান আর হাজমোলার মজার শনিবার 


ভাবলে মনে হয় , এই তো কিছু দিন আগের ঘটনা।  ঘুম থেকে ওঠা সকাল গুলো,  মা পাপার কাজে বেরোনোর অপেক্ষা , আমার আর দিদিভাইয়ের মজা গুলো সব এখনো চোখে দেখতে পারি। কেমন যেন মরীচিকার মতন, মনে হয় এইতো  খুব নিকটবর্তী কিন্তু ধরা যায় না। তখন পেরিয়ে আসা বছর গুলো চোখে আঙ্গুল দেখিয়ে  দেয়, যে  তুই এখন আর ছোট নেই।  ছোট্টবেলা পেরিয়ে এসেছিস।  হা: হা: ।


তা যাক গে  এই সব বড়ো  হয়ে  যাওয়ার  দুঃখের অনুভূতি।  ছোট্টবেলার কিছু মুহূর্ত আমি আপনাদের বলি। মোটামুটি বোনেদের মধ্যে এগুলো খুব স্বাভাবিক। আপনাদের মধ্যে যদি এমনা কেউ থাকেন যাঁরা  ছোটবেলা দিদি বা বোনের সাথে কাটিয়েছেন, তাদের হয়তো  বেশ মজা লাগবে।  আমি আর আমার দিদিভাই হলাম মানিকজোড়।  ঝগড়া ঝাঁটি হতো  ঠিকই , কিন্তু দিদিভাই আমার মাথার উপর ছত্রছায়ায় মতন থাকতো সবসময় , এখনো তাই.। আমার দ্বিতীয় মা।  তো আমাদের জন্য শনিবার টা একটা বিশেষ দিন ছিল।  আমার চতুর্থ শ্রেণী  পড়া  অব্দি এইটা ছিল প্রতি শনিবারের রুটিন।  শনিবার মা পাপা দুজনেই  কাজে বেরোতেন, আর আমরা দুজনেই বাড়িতে থাকতাম।  মা বেরিয়ে যাওয়ার পরেই শুরু হতো শক্তিমান দেখার ধুম।  সে যে কি আনন্দ ৯০ দশকের  ছেলেপিলেরা বুঝবে। দিদিভাই মাঝে মাঝে পাড়ার বিচিত্রা মুদি দোকান থেকে ১ টাকায়  ৭ টা হাজমোলা  নিয়ে আসতো।  আমরা ৩.৫ করে ভেঙে খেতাম আর শক্তিমান দেখতাম।

তারপর হতো আমাদের রান্নাঘরের আসর শুরু।  কেমন রান্নাঘর ? খেলার রান্নাঘর। টিভি তে যেমন ভাবে মহিলারা রান্না শেখাতো, সেই অনুকরণে ডাইনিং টেবিলের উপর সমস্ত কাঁচের ও চীনা মাটির বাসন নামিয়ে  শুরু হতো আমাদের দুই বোনের রান্না রান্না খেলা। আমি হতাম সঞ্চালিকা আর দিদিভাই হতো রাঁধুনি। বলে রাখি আমার দিদিভাই ছোটবেলা থেকে দুর্দান্ত মিমিক্রি করে, ও তখন হিন্দি তে খুব সুন্দর নকল করে করে রান্না শেখাতো।  ঠিক যেমন দূরদর্শন ন্যাশনালের মহিলারা করতো। কি রেসিপি দিতো আমরা কেউ জানিনা। শুধু অভিনয় করতাম। হা হা। এমন হয়েছে কয়েকবার বাস্তব সামগ্রী নিয়ে তেল, গ্যাস ছাড়া রান্না করতে গিয়ে সমস্ত রন্ধন সামগ্রী দিয়েছি নষ্ট করে আর মায়ের বাড়ি  ফেরত আসার পর দুমাদ্দুম  মার্  আর বকুনি খেতে হয়েছে।  


এছাড়াও আমাদের থাকতো আরেকটা খেলা, সাজগোজ করে  মায়ের শাড়ী আলমারি থেকে নামিয়ে পরে ঘুরে বেড়ানো। স্কেচ পেন দিয়ে নেলপলিশ, মুখে পাউডার আর একটু লিপস্টিক।  মনে আছে, মায়ের স্কুল শনিবার হাফ ডে হতো, ১:৩০  টা থেকে ২ ট র মধ্যে মা যেই কলিং বেল বাজাতো, হুটোপুটি করে শাড়ী খুলে, মুখের লিপস্টিক মুছে দরজা খুলতে যেতাম, অনেকসময় গামছা দিয়ে মুখ ঢেকে দরজা খুলে দিতাম।  মা যে বুঝতো না তা নয়, বুঝতো বটেই।  হয়তো কখনো কখনো মাফ করে দিতো। মাকে আমরা দুজনেই খুব ভয় পেতাম  আর এখন মা হয়ে গেছে ডার্লিং  বেস্ট ফ্রেন্ড।  



এই সব দিন বড্ডো মনে  পড়ে।  ২০ বছরের ও বেশি।  কি করে যে কেটে গেলো টের পাওয়া যায়নি।  আপনাদের ও নিশ্চই থাকবে , যদি মনে করেন, শেয়ার করুন। 











Posted By Debarati Datta Read about me here blogging since 2011 Copyright © Debarati Datta Privacy Policy

Monday, 11 March 2019

রামধনু

রূপকথা রূপকথাতেই ভালো 
যেমন দিগন্তে  ভেসে ওঠা গোধূলির আলো , 
বইয়ের পাতায়, হালকা হাওয়ায় 
মনের কোনে বাসা বাঁধা রামধনুর রং-ও   
ক্ষনিকের পরে  আকাশে মিলিয়ে যায় 
বৃষ্টির জলের দমকা হাওয়ায়  ।।
একটুকু স্থির নিঃশ্বাস ,
পিঞ্জরের কোনো এক কোনায়ে সুপ্ত বাস 

খেয়াল খুশীর হিসেব নিকেশ,
দমকা প্রেমের  এক চিলতে রেশ  
।।


















Posted By Debarati Datta Read about me here blogging since 2011 Copyright © Debarati Datta Privacy Policy

Wednesday, 11 October 2017

একটা উদ্ভট স্বপ্ন।



স্বপ্ন তো সবাই দেখি।  না এটা জীবনের স্বপ্ন না।  মানে রাতে ঘুমোনোর পরে যেই স্বপ্ন দেখি , সেই স্বপ্ন। 
বেশির ভাগ সময় স্বপ্নের মাথা মুন্ডু থাকে না।  কি দেখতে কি দেখি, শুরু, শেষ কিছুই মনে পরে না ঘুম থেকে ওঠার পর।  কিন্তু আমার ক্ষেত্রে মাঝে সাঝে এমন কিছু স্বপ্নের  সাক্ষাৎ ঘটে যেগুলো পুরোপুরি  ছায়াছবির মতন লম্বা আবার বেশ ক্রিটিক্যাল , মানে প্লট আছে। আবার সেই স্বপ্নগুলো এতটাই মনে রেখাপাত করে যে পরের দিন মনেও থাকে।  কাল এমনি একটা দিন ছিল।  থুড়ি , রাত  ছিল। 

শুরুতেই বলে রাখছি, স্বপ্ন তো  -তাই  ১০০% উদ্ভট। বাস্তবতা দিয়ে ভাবার চেষ্টা করবেনই  না।  শুধু পড়ে যান।  কখনো বুকপকেট ঘড়ি দেখেছেন ? ছবিতে তো নিশ্চয়ই দেখে থাকবেন।  আচ্ছা ,এই যে ডান দিকে দেখুন। ঠিক এরকম রকমের। এবার রোমের কোলোসিয়ামটার  কথা মনে করুন। এবার দুটো জিনিষকে এক করে ভাবার চেষ্টা যদি করতে পারেন ভালো হয়।  একটা গোলাকার, প্রত্নতাত্বিক  বিশাল বাড়ি যেটা আসলে একটা বড় পকেট ঘড়ি।  মরিচা পড়া।  কি করে সেখানে গেলাম জানিনা।  শুরু হলো এমন ভাবে।  আমরা (আমি, সাথে আরো কেউ আছে,  সবার মুখ  মনে নেই )কোনোভাবে সেই বাড়িটাতে ঢুকে পড়েছি।  ঢুকেই অন্ধকার। বাড়িটা দোতলা। গোলাকার  বৃত্ত পুরো।  ভাঙা দরজা, জানালা তে ঝুল পরে আছে।  জানালার দরজা টা খোলার কায়দা টা  বেশ অন্যরকম।  একটা কপাট পুরো ফ্লোর জুড়ে আছে।  কাঠের তৈরি কপাট। তা আমি  হ্যান্ডেল ধরে  জোর দিয়ে  কপাট  টাকে ডান দিকে  সরিয়ে দিলাম।  দৌড়ে দৌড়ে দোতলাতেও তাই করলাম। পরে বুঝলাম সেটা  ঘড়ির  চাবি। মানে গোটা বাড়িটা একটা ঘড়ি। আর জানালার কপাট খুলতে খুলতেই শুরু হলো ভূমিকম্প।  মানে বাড়ি (ঘড়ি) চলন্ত হয় উঠেছে।  ব্যাপারটাএকটু ভুতুড়ে লাগলো।  আমরা সবাই পালানোর চেষ্টা করছি।  বেরোনোর রাস্তা খুঁজে বেড়াচ্ছি  এবং বেরোতেই দেখলাম , বাড়ির দোতলা তে আমার ছোটবেলার স্কুলের এক বান্ধবী  দাঁড়িয়ে আছে।  (বি.দ্রঃ  স্বপ্নে এমন অনেকজনকেই দেখি যাদের সাথে যুগযুগ দেখাও হয়না। এই বান্ধবী টিও তাই., তাও যাই হোক, স্বপ্নে দেখা হলো ). আমি ওকে চেঁচিয়ে  চেঁচিয়ে বলছি তুই বেরো শিগগির। কিন্তু ও মানা করলো  বললো , ও আমাদের সাথে আর ফিরবে না।  হঠাৎ দেখলাম ওর পিছনে একটা গোলাপি ফ্রক পড়া পুতুল। যে কিনা  ওকে শক্ত করে ধরে রেখেছে।  ব্যাপারটা পুরোপুরি ভুতুড়ে।  তারপর কি দেখেছি কি না দেখেছি আগু পিছু কিছুই মনে নেই।  ঘুম থেকে উঠে শুধুমাত্র এইটুকুই মনে আছে।  কিন্তু এটাও জানি দেখেছিলাম আরো বেশ কিছু।  ভাবলে হাসিও পাচ্ছে ,আমি জানি আপনাদের পাচ্ছে।  বা বিরক্তি ও হতে পারে। 















Posted By Debarati Datta Read about me here blogging since 2011 Copyright © Debarati Datta Privacy Policy

Saturday, 30 September 2017

রুপাই ও সাজু



পাহাড়ের দেশে বসে রূপকথা লিখেছিলাম,
ভেবেছিলাম রুপাই আর সাজু হবো 
নক্সী  কাঁথার মাঠ  পেরিয়ে সাত সমুদ্র তেরো  নদী পার হবো 
চিঠির পৃষ্ঠায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অভিব্যক্তি 
আর পোস্ট অফিসের  লাইনে  ছিল অমৃতসার  
ফুরোলেই গল্প যেত  হারিয়ে। 
ও যে কিসের তাড়া , পালিয়ে বেড়ায় 
রূপকথার মুক্ত এক এক করে যায়  গড়িয়ে 
মালা হতে থাকে শূন্য 
রুপাই ও সাজু ক্রমে হতে থাকে ছিন্ন। 



ছবি : গুগল 


Posted By Debarati Datta Read about me here blogging since 2011 Copyright © Debarati Datta Privacy Policy

Friday, 29 September 2017

বিপর্যয়



দেখেও দেখোনা হায় ,
ওযে ভীষণ ই বিপর্যয় ।।

চোখের উপরে পর্দা মোড়া ,
বিশ্বাসের মালা  সরিয়ে তবুও -
দেখেও দেখোনা হায় ,
ওযে ভীষণ  ই বিপর্যয় ।।
দম্ভের জোরে যখন জীর্ণ হয় সাদামাটা প্রাণ 
তখনও  তুমি দেখতে পারোনা  প্রকাশ্য  অপমান ,
দেখেও দেখোনা হয়,
এযে  সত্যি বিপর্যয় 
বলি এক  খাঁটি  কথা ,যদি বুঝতে রাজী  হও ,
চোখের উপর  হতে অন্ধ পর্দা  খুব  শিগগির সরাও 
পক্ষে-বিপক্ষের  দাঁড়িপাল্লা  থেকে পারো যদি নিজেকে সরাতে ,
তোমার উচিত বুদ্ধির জোরে  তুমিই  পারবে তোমাকে বোঝাতে 





Posted By Debarati Datta Read about me here blogging since 2011 Copyright © Debarati Datta Privacy Policy

সরগমের খোঁজে,

অনেকবছর পর যখন ফুল ফুটছিল ,
ভেবেছিলাম এটাই আসল বসন্ত 
অলীক  ভাবনার মেঘে গা ভাসিয়েছিলাম আমি 

সত্যি বলতে হারানো একটা সুর খুঁজে পেয়েছিলাম আমি 
মনে হচ্ছিলো হ্যাঁ এটাই সঠিক সরগম 
কিন্তু সময় পাষাণসম , খুব নির্মম 
ফোটা ফুলটাও ঝরে যায়  বারে  বারে 
ফুল সুন্দর থাকে না,
মেঘ উড়ে যায়, চলে আসে প্রখর রৌদ্র 
গা জ্বলতে থাকে , কষ্ট হয় 
অবিশ্বাস্য ও  সত্যি  হতে থাকে 
ভেঙে যায় আদরের আস্তানা 
 বৃষ্টি  পড়তে  থাকে অঝোরে 
বৃষ্টি আর থামে না।।





Posted By Debarati Datta Read about me here blogging since 2011 Copyright © Debarati Datta Privacy Policy

Wednesday, 27 September 2017

নিস্তব্ধ প্রলয়






পোস্টার : সমরেশ মজুমদারের সাতকাহন 










লিখেছিলাম বন্ধু তোমায় , 
মনের গভীর সংশয় !
তুমি বলেছিলে , সব ঠিক হয়ে যাবে। 
বলেছিলাম বন্ধু তোমায় ,
আমার মনের নিস্তব্ধ  প্রলয় !
তুমি বলেছিলে, সব দেখে নেওয়া যাবে। 
সময় গড়িয়ে যায় , মুহূর্ত  হয় শেষ ,
হাসি কান্নার চোরাবালিতে পরিস্থিতি 
চাপা পড়ে যায় ঠিকই ..
হৃদয়ে থেকে যায় রেশ। 
চাওয়া না পাওয়ার মূক অভিমানে 
সীমারেখা চলে বেড়ে ,
সাতকাহনের একটি কাহন 
হারিয়ে যায় মানুষের ভীড়ে।।







Posted By Debarati Datta Read about me here blogging since 2011 Copyright © Debarati Datta Privacy Policy

Monday, 18 September 2017

ছোট্টবেলার রং গোটা দুই চার - দ্বিতীয় পাতা

।। দ্বিতীয় পাতা ।।






ছোট্টবেলার রং গোটা দুই চার,

স্কুলের গেট ,মায়ের হাত , ভালোবাসার আঁচ  
আমার অপেক্ষার  "বিপুল ভান্ডার " , আর
টিউনিক , টাই পরা  সপ্তাহের  দিন পাঁচ ।।






 যখন  ক্লাস থ্ৰী  তে , তখন মার সাথে  স্কুলের জন্য বেরোতাম, আমার নির্ধারিত সময়ের  অনেকক্ষন  আগেই যদিও পৌঁছে যেতাম, তাও বেরোতাম কারণ মার সাথে স্কুলে যাওয়া  তার আগে আমার হতো না। আমাকে আমার স্কুলে ছেড়ে দিয়ে  মা চলে যেত মার স্কুলে।  আর আমি  মাকে হাত নাড়িয়ে টাটা করতে থাকতাম  যতক্ষণ মা দৃষ্টিগোচর  না হয়ে যেতেন  , তাতে একটা আলাদা সুখ ছিল।  আমার স্কুলের উল্টোদিকে বিপুর কাকুর মুদি দোকান ছিল।  'বিপুল ভাণ্ডার ' । বিপুল কাকুর বাবা (আমি দাদু বলে ডাকতাম) আমাকে অনুকরণ করে  হাত নাড়িয়ে মার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে টাটা করতেন। আর  বাঁকা  চোখে আমার দিকে চেয়ে চেয়ে মিটি মিটি হাসতেন।  উনি আমার কাঁদো কাঁদো মুখটাকে  হাসিমুখ  করতে চাইতেন।  আমি হেসেও ফেলতাম। তারপর আমি যা করতাম, অবিকল অনুকরণ করতেই থাকতেন।  আর আমি হেসে যেতাম।  এইভাবে অনেক্ষন কাটতো স্কুলের গেটে।  তারপর স্কুল খুলে গেলে  আমি ঢুকে যেতাম।  আজ অনেক বছর হলো উনি নেই।  প্রায় ১০-১২ বছর হবে।  কিন্তু মাঝে মাঝে দাদুর কথা ভাবলে বেশ মজা লাগে।  

ছোট্টবেলা টা  কি মিষ্টি ছিল  :)




Posted By Debarati Datta Read about me here blogging since 2011 Copyright © Debarati Datta Privacy Policy